Back to All Newstart Articles

Nutrition| পুষ্টি

আদিতে … 

আমরা ফলফলাদি খাই এবং শাক-সবজি খেতাম।

“ঈশ্বর আরও কহিলেন, দেখ, আমি সমস্ত ভূতলে স্থিত যাবতীয় বীজোৎপাদক ওষধি ও যাবতীয় সবীজ ফলদায়ী বৃক্ষ তোমাদিগকে দিলাম, তাহা তোমাদের খাদ্য হইবে” (আদিপুস্তক ১:২৯)।

বিস্ময়কর স্বাস্থ্য তথ্য: থমাস পার এর জন্ম ১৪৮৩ খ্রীষ্টাব্দে, বলা হয়েছে যে তিনি অবিশ্বাস্যভাবে ১৫২ বছর পর্যন্ত বেঁচেছেন! যদি সত্য হয়, তার অর্থ তিনি রানী এলিজাবেথ ১-এর গোটা ৫০ বছরের শাসন সহ ইংল্যান্ডের ১০ জন রাজার সিংহাসন আরোহণ দেখেছিলেন।
১৬৩৫ খ্রীষ্টাব্দে রাজা চার্লস ১ পার’কে তার রাজ প্রাসাদে ডেকেছিলেন এবং এমন দীর্ঘায়ু লাভ করার জন্য বৃদ্ধ লোকটি কি কি পন্থা অবলম্বন করেছিলেন তা জানার জন্য জিজ্ঞাস করেছিলেন। উত্তরে পার বলেছিলেন, একজন কৃষক হিসেবে অধিকাংশ সময়ে তিনি গোলা আলু, ফল, এবং ওটমিল খেয়ে অতি সাধারণভাবে জীবন যাপন করেছেন।
দুর্ভাগ্যবশত, “বৃদ্ধ পার” রাজ প্রাসাদের পরিবেশিত দামি খাবার খাওয়ায় অভ্যস্ত ছিলেন না। ঐ রাতে খাবারের পরে, তিনি ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েন আর তিনি মারা যান। রাজা চার্লস রাজকীয় সুস্বাদু খাবার খাইয়ে ব্রিটেনের সবচেয়ে বয়স্ক নাগরিককে মেরে ফেলার ভয়ানক এক অপরাধ অনুভব করেন আর সেই কারণে তিনি পার’কে ওয়েস্টমিনিস্টার অ্যাবেতে সমাধিস্থ করার আদেশ করেন, যেখানে আজও তার কবর দেখতে পাওয়া যায়।
এটি দেখায় যে ‘পার’ ছিলেন একটি জীবন্ত প্রমাণ যে একটি দীর্ঘায়ু ও শক্তিশালী জীবনের সঙ্গে আপনি যা খান তার একটি সম্পর্ক রয়েছে।

মানুষের জন্য প্রাথমিক খাদ্য কি ছিল?

বাইবেল অনুসারে, সৃষ্টির পরে, আদম এবং হবাকে ফলফলাদি, শস্যকণা, এবং বাদামজাতীয় খাদ্য খেতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। ঈশ্বর তাদের শাক-সবজি খেতে পরামর্শ দিয়েছিলেন: “তুমি ক্ষেত্রের ওষধি ভোজন করিবে”
(আদিপুস্তক ৩:১৮)। মহা জলপ্লাবনের পূর্ব পর্যন্ত যারা বেঁচে ছিলেন তাদের জন্য এগুলোই ছিল ঈশ্বর প্রদত্ত প্রাথমিক খাদ্য-পরিকল্পনা।
মহা প্লাবনের পরে, সারা বিশ্বে শাক-সবজির বিলুপ্ত হওয়ার কারণে, সম্পূর্ণ উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাদ্য-পরিকল্পনাটি নোহ এবং তার পরিবারের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়ে। একটি উৎস থেকে খাদ্য সরবরাহ বজায় রাখার জন্য , ঈশ্বর মাংস খাওয়ার অনুমতি দিলেন। তবে, ঈশ্বর খাদ্যের জন্য নানা ধরণের পশুকে অপেক্ষাকৃত স্বাস্থ্যসম্মত হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের “শুচি” হিসেবে আখ্যায়িত করলেন (দেখুন লেবীয় ১১; দ্বিতীয় বিবরণ ১৪:৩-২১)। অবশ্য, নোহের জাহাজে জোড়ায় জোড়ায় প্রবেশ করার পরিবর্তে, শুচি পশুগুলো সাত জোড়া করে নোহের জাহাজে প্রবেশ করেছিল!

যদিও ঐ সময় এটির প্রয়োজন ছিল, তথাপি দৃশ্যত দীর্ঘায়ু কমে যাওয়ার পক্ষে মাংস ভোজন একটি ভয়ঙ্কর অবদান রেখেছিল। মহা প্লাবনের পূর্বে মানুষের গড় আয়ু ৯০০ বছরের কাছাকাছি স্থির ছিল (আদিপুস্তক ৫)। মহা প্লাবনের পরে, আমরা দেখতে পাই নোহের পুত্র শেম ৬০০ বছর পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। মাত্র নয় প্রজন্ম পরে, অব্রাহাম মাত্র ১৭৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। আজ মানুষের জীবনের গড় আয়ু মহা প্লাবন-পূর্ব আমাদের পূর্ব-পুরুষদের আয়ুর একটি ভগ্নাংশ মাত্র। তবে ফলফলাদি, শাক-সবজি, বাদাম, বীজ, এবং পূর্ণ শস্যদানা দ্বারা সমৃদ্ধ খাদ্য তালিকা যদি দীর্ঘায়ু লাভে ইতিবাচক অবদান রাখে, তাহলে পূর্বের সেই প্রাথমিক খাদ্য তালিকায় একটি প্রত্যাবর্তনের কারণে আজ আমাদের জীবনেও কি এই দীর্ঘায়ু আসতে পারে?

বিস্ময়কর স্বাস্থ্য তথ্য: যদিও ঈশ্বর মাংস
খেতে অনুমতি
দিয়েছিলেন, তথাপি তিনি যে মাংসে এখনও রক্ত রয়েছে সেটি খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করেছে কারণ সেই মাংসে জীবনরক্ত রয়েছে (আদিপুস্তক ৯:৪, লেবীয় ৩:১৭, ১ শমূয়েল ১৪:৩২-৩৪)। প্রকৃতপক্ষে, আফ্রিকার কিছু কিছু উপজাতি, যেমন মাসাই’রা তাদের খাদ্যের অংশ হিসেবে রক্ত খেয়ে থাকে। মাসাই লোকদের মধ্যে ৫০ জনের দেহের ময়না তদন্তে ব্যাপকভাবে হৃদরোগ দেখা গেছে। যদিও শারীরিকভাবে কঠোর পরিশ্রমী জীবন যাপন তাদের কিছুটা সুরক্ষা দেয়, তথাপি আধুনিক জগতে তাদের আয়ু সবচেয়ে কম (নারীদের গড় আয়ু ৪৫ বছর এবং পুরুষদের গড় আয়ু ৪২ বছর)।

গিলে ফেলার পরে কি হয়?

একটি উপযুক্ত খাদ্য দ্বারা উপযুক্ত পরিপাক শুরু হয়। এই প্রক্রিয়াটি খাবার চিবানো দ্বারা আরম্ভ হয়, সুতরাং আপনার খাবার ভালো ভাবে চিবানো নিশ্চিত করুন! খাদ্য যতক্ষণ মুখের মধ্যে থাকে ততক্ষণ একটি উৎসেচক বা এনজাইম (লালা উৎপাদক অ্যামিলেজ) এটিকে ভেঙ্গে ফেলতে শুরু করে।

একবার গিলে ফেলা হলে, সেই খাদ্য মণ্ডায় পরিণত হয়। তার পর সেই মণ্ডা অন্ননালী বেয়ে নিচে নামে এবং পাকস্থলীতে প্রবেশ করে, যেখানে পাকস্থলীর এসিড জটিল রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হজম করতে শুরু করে।

এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হওয়ার পর, সেই মণ্ড ক্ষুদ্রান্ত্রের মধ্যে প্রবেশ করে, যেখানে ভিন্ন এনজাইম কার্বহাইড্রেটস বা শর্করাকে ভেঙ্গে ফেলে। চর্বিকে হজম করার জন্য পিত্তথলি থেকে নিঃসৃত পিত্তরস সাহায্য করে, এবং অগ্নাশয় আরও কিছু এনজাইম (উৎসেচক) যুক্ত করে যাতে এটি ভেঙ্গে যায়। ক্ষুদ্রান্ত্রের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে মণ্ড বৃহদান্ত্রে প্রবেশ করার পথে ক্ষুদ্রান্ত্র অধিকাংশ পুষ্টি শোষণ করে। এ অবস্থায়, অধিকাংশ হজম ক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে যায় … আর হ্যাঁ, বাকি গল্পটি আপনি জানেন।

বিস্ময়কর স্বাস্থ্য তথ্য: হজম প্রক্রিয়াটি আপনি খাওয়া শুরু করার পূর্বেই শুরু হয়। এটি তখনই শুরু হয় যখন আপনি অনিবার্য ভাবে কোন কিছুর ঘ্রাণ নেন অথবা আপনি যখন আপনার প্রিয় কোন একটি খাবার দেখেন। হজমের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি পরবর্তী ২৯ ঘণ্টা অথবা তারও বেশি সময় ধরে চলবে।

পুষ্টি সম্পর্কে আপনার কি জানা প্রয়োজন?

খাদ্যের পাঁচটি মৌলিক উপাদান হল কার্বহাইড্রেট, প্রোটিন, চর্বি, ভিটামিন, এবং খনিজ পদার্থ।

কার্বহাইড্রেট হল স্টার্চ বা শ্বেতসার, চিনি বা স্যুগার, এবং ফাইবার বা আঁশ। স্টার্চ বা শ্বেতসার এবং স্যুগার বা চিনি গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়, যা শরীরের প্রধান জ্বালানী। প্রাথমিকভাবে আঁশ উদ্ভিদ ভিত্তিক খাদ্যে পাওয়া যায়, এটি স্তুপকারী প্রতিনিধি যা অন্ত্রকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।

প্রোটিন শরীর দ্বারা ভেঙ্গে ফেলা উপাদান এবং যা অ্যামাইনো এসিডে রূপান্তরিত হয়, যা হরমোন, এনজাইম, এবং শরীরের কাঠামো, যেমন মাংসপেশীর টিস্যু বা কোষ-কলা তৈরির জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদন।

চর্বি শক্তির সবচেয়ে কেন্দ্রীভূত রূপ যা প্রতি গ্রাম প্রোটিন অথবা কার্বহাইড্রেট যে পরিমাণে শক্তি দেয় তার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি পরিমানে শক্তি সরবরাহ করে। পরে ব্যবহারের জন্য এটি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে জমা থাকতে পারে। চর্বির তিনটি প্রাকৃতিক রূপগুলো হল, মনোআনস্যাচুরেটেড, পলিআনস্যাচুরেটেড, এবং স্যাচুরেটেড।

আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট বা অসম্পৃক্ত চর্বিগুলো অপেক্ষাকৃত সর্বাধিক স্বাস্থ্যকর প্রকৃতির, বিশেষ করে যখন এটি কোন উদ্ভিদজাত উৎসগুলো থেকে আসে।

পরিশোধিত স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত খাদ্যগুলো বিপুল সংখ্যক রোগ-ব্যাধির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ আমাদের খাদ্যের অতি প্রায়োজনীয় উপাদান। পূর্ণ শস্যগুলো, যা যতটা সম্ভব অতি সামান্যই পরিশোধন করা হয়েছে, প্রাকৃতিক ভাবে সেগুলোতে এই উপাদানগুলো সর্বোচ্চ পরিমাণে বিদ্যমান থাকে।

ফাইটোকেমিক্যালগুলো শুধু উদ্ভিদজাত খাদ্যেই পাওয়া যায়, যা বহু রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে বাড়তি বৈশিষ্ট্য হিসেবে ভূমিকা পালন করে থাকে।

আরও পড়তে চান? আশ্চর্যজনক স্বাস্থ্য ম্যাগাজিন অর্ডার করতে আমাদের সংস্থান পৃষ্ঠাটি দেখুন!

Back to All Newstart Articles