N.E.W.S.T.A.R.T.
Water|জল
“আর উদ্যানে জলসেচনার্থে এদন হইতে এক নদী নির্গত হইল, উহা তথা হইতে বিভিন্ন হইয়া চতুর্মুখ হইল” (আদিপুস্তক ২:১০)।
বিস্ময়কর স্বাস্থ্য তথ্য: প্রায় ১০০ পূর্বে সৌদি আরবের এক বালিয়াড়ির উপরে হাড়ের একটি স্তুপ পাওয়া গিয়েছিল। স্পষ্টত, কোন একজন লোক মরুভূমিতে হারিয়ে যাবার ফলে মারা গিয়েছিল। তার ছিন্নভিন্ন কাপড়ের পকেটের মধ্যে হিজিবিজি করে লেখা একটি চিরকুট পাওয়া গিয়েছিল, তাতে লেখা ছিল: “তৃষ্ণার কারণে মৃত্যু। আমি আর একটুও এগোতে পারছি না।” হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তিটি স্পষ্টত অস্থায়ী ছোট্ট একটি আশ্রয় স্থান তৈরি করেছিল এবং, জল ছাড়াই সেখানে বসে মারা গিয়েছিল। করুণভাবে, তার অবশিষ্টাংশগুলো ঠিক একটি সবুজ শ্যামল মরুদ্যানে পাশে একটি বালিয়াড়িতে পাওয়া গিয়েছিল যেখান থেকে মাত্র কয়েক শত গজ দূরে আর্তেজিয়ান প্রস্রবণগুলো ছিল।
একইভাবে আজ, লক্ষ লক্ষ লোক, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, মৌলিক, এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি বেষ্টিত থাকা সত্ত্বেও ধীরে ধীরে পানিশূন্যতায় মারা যাচ্ছে।
ঈশ্বর কি আগেই পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন?
“কেননা সদাপ্রভু ঈশ্বর পৃথিবীতে বৃষ্টি বর্ষান নই, আর ভূমিতে কৃষিকর্ম করিতে কোন মনুষ্য ছিল না। আর পৃথিবী হইতে কুজ্ঝটিকা উঠিয়া সমস্ত ভূতলকে জলসিক্ত করিল। আর সদাপ্রভু ঈশ্বর মৃক্তিকার ধূলিতে আদমকে (অর্থাৎ মনুষ্যকে) নির্মাণ করিলেন” (আদিপুস্তক ২:৫-৭)।
বাইবেলের বিবরণ বলে যে, এমন কি গাছপালা, জীবজন্তু, অথবা মানব জাতি তৃষ্ণার্ত হওয়ার অভিজ্ঞতার পূর্বে, ঈশ্বর ইতোমধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল সরবরাহ করে তাদের প্রয়োজন মিটিয়েছিলেন। এটি কি সম্ভব হতে পারে যে তৃষ্ণার জন্য ঈশ্বরের বিধান বা ব্যবস্থাপত্রটি আজও অখণ্ডনীয় রয়েছে? জল এমন একটি উপাদান যা আমরা প্রায়ই গ্রহণ করতে রাজি হই … আসুন আমরা জলের জীবন-দানকারী গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলো পুনরায় পরীক্ষা করি।
আমাদের শরীরে কি পরিমাণ জল আছে?
আমাদের শরীরের অ্যাওর্টা (আমাদের শরীরের সবচেয়ে বড় রক্তনালী) থেকে শুরু করে যাইগমা (মাথার খুলির একটি হাড়) পর্যন্ত সব জায়গায়ই জল রয়েছে। আমাদের শরীর ৬০ শতাংশেরও বেশি ওজনের জল ধারণ করে।
আরও যোগ করতে হবে, কিছু কিছু টিস্যু এবং অঙ্গে উচ্চ মাত্রায় জল ঘণীভূত থাকে। মস্তিষ্কে প্রায় ৭০ শতাংশের মত জল রয়েছে, এবং এমন কি ফুসফুসে আরও বেশি জল রয়েছে: প্রায় ৯০ শতাংশের মত!
জল আমরা শুধু আমাদের শরীরের বাইরের অংশ পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহার করি না, একই সঙ্গে আমরা আমাদের শরীরের ভেতরের অংশও পরিষ্কার করতে ব্যবহার করে থাকি। এমন কি অনুবীক্ষণিক পর্যায়ও জল একটি পরিষ্কারক মাধ্যম এবং একে “সার্বজনীন দ্রাবক” হিসেবে অভিহিত করা হয়। অনেক যৌগিক পদার্থ জলে দ্রবীভূত হতে পারে এবং এভাবে একটি দ্রবণে পরিণত করে। উদাহরণ স্বরূপ, রক্তের প্রায় ৮৩ শতাংশই জল।
অবশিষ্ট শতাংশের মধ্যে রয়েছে রক্তের কোষগুলো, পুষ্টি উপাদানগুলো, হরমোন ইত্যাদি।
পর্যাপ্ত পরিমাণে জল ছাড়া আমাদের রক্ত জমাট বেধে যেত। কি হবে তার একটি চিত্র দিতে গেলে এভাবে বলতে হবে: মনে করুন সেটি হবে ঘণ কমলার রস দ্বারা থালা-বাসন ধোয়ার মত অবস্থা। আপনার কাছে শুধু একটি আঁঠালো দ্রবণ থাকবে।
আমরা যখন যথেষ্ট পরিমাণে জল পান না করি তখন কি হয়?
অপর্যাপ্ত জলের সময়গুলোতে আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোকে রক্ষা করার জন্য আমাদের শরীরে একটি জটিল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে।
তখন আমাদের শরীরের কম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল (যেমন ত্বক, হাড়ের সন্ধি, হাড়, ইত্যাদি) থেকে জল নেয় এবং তা মস্তিষ্কে, হৃৎপিণ্ডে, এবং অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে সরবরাহ করে থাকে।
দুর্ভাগ্যবশত, অনেক লোক তাদের সারা জীবন ব্যাপী এই ধরণের আংশিক পানি শূন্য অবস্থার মধ্যে জীবন যাপন করে যার ফলে তারা অকাল বার্ধক্য, কিডনীতে চাপ, আর্থ্রাইটিস বা সন্ধিপ্রদাহ, এবং স্বাস্থ্যগত অন্যান্য সমস্যার একটি নিমন্ত্রণকারী হিসেবে কাজ করে।
আমাদের আসলে কি পরিমাণে জলের প্রয়োজন?
নিয়মিত এবং অবিরত জল পান করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এমন কি আপনি জল পিপাসা অনুভব করার অনেক আগেই পান করতে হবে।
পরিবেশগত ভাবে স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতিদিন যে পরিমাণে জল পান করতে হবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) সেই ব্যাপারে একটি পরামর্শ দিয়েছে। পরামর্শটি হল:
মহিলারা: ৮ আউন্সের একটি গ্লাসের আনুমানিক নয় গ্লাস
পুরুষরা: ৮ আউন্সের একটি গ্লাসের আনুমানিক বারো গ্লাস
গড়ে প্রতিদিন শরীরের ৪ শতাংশ জল হারায়। মূত্র ত্যাগের মাধ্যমে, মল ত্যাগের মাধ্যমে, ঘামের মাধ্যমে, এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে জল শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। অবশ্য, ব্যায়ামের সময়ে প্রচুর পরিমাণে ঘাম এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের কারণে পরামর্শকৃত জল পান করার পরিমাণ অপেক্ষা বাড়তি কিছু জল পান করার প্রয়োজন হবে।
আমরা যখন তৃষ্ণার্ত হই তখন কেন আমরা শুধু জল পান করতে পারি না?
তৃষ্ণার্ত না হওয়া পর্যন্ত আপনি কি জলপানের জন্য অপেক্ষা করেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনার মস্তিষ্ক আপনাকে কিছু একটা পান করতে বলার অনেক আগে থেকে আপনি সম্ভবত পানি শূন্যতায় (খুব সামান্য পানি আছে এমন অবস্থায়) ভুগছেন ।
পানি শূন্যতার কিছু কিছু প্রাথমিক লক্ষণ কি?
মৃদু পানি শূন্যতা হল শরীরের ১ থেকে ৩ শতাংশ ওজন কমে যাওয়া ফলে তরলের প্রবাহ কমে যায় এবং এর কারণে যা হতে পারে তা হল:
- ঙ্মাথা ব্যথা,
- ঙ্শ্রান্তি,
- ঙ্দ্বিধা-দ্বন্দ্ব,
- ঙ্ক্ষুধা কমে যাওয়া,
ক্ঙ্ত্ব - কে রক্তিম ভাব,
- ঙ্তাপ অসহ্য
- ঙ্হাল্কা ক্লেশ
- ঙ্মুখ এবং চোখে শুকনো ভাব
- ঙ্ত্বকে নমনীয়তার অভাব
- ঙ্পাকস্থলীতে ব্যথা, যা ক্ষুধা বলে দ্বিধাগ্রস্ত করতে পারে
- ঙ্এবং একটি ধীরগতির পরিপাক ক্রিয়া যার ফলে ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে।
বিস্ময়কর স্বাস্থ্য তথ্য: সাধারণ ফিল্টার করার প্রক্রিয়া বা পরিস্রুতকরণ, যা আস্রবণকে ঘুরিয়ে দেয়, আর এই ধরণের কিছু কিছু প্রক্রিয়া যা বাণিজ্যিক ভাবে জল সরবরাহকারীরা জল শোধন করার কাজে ব্যবহার করে থাকে। স্বাদ বৃদ্ধির জন্য কেউ কেউ একাধিক খনিজ পদার্থও ব্যবহার করে থাকে। আপনার পানীয় জলের স্বাদ বৃদ্ধির একটি উপায় হল জলে টাটকা লেবু চিপড়ে তার রস অথবা লেবুজাতীয় রস যুক্ত করা।
এটি কি সত্যি যে পানিশূন্য হওয়া সহজসাধ্য?
পানিশূন্য হওয়া খুবই সহজ। এক দিন পর্যাপ্ত জল পান না করে কাটালে মাঝারি ধরণের পানি শূন্যতা হয়। দুই দিন পানি ছাড়া থাকালে পানি শূন্যতার কারণে তার পরিণতি জীবনের জন্য হুমকির একটি পর্যায় চলে যেতে পারে।
আরও পড়তে চান? আশ্চর্যজনক স্বাস্থ্য ম্যাগাজিন অর্ডার করতে আমাদের সংস্থান পৃষ্ঠাটি দেখুন!
