N.E.W.S.T.A.R.T.

Temperance|সংযম

“আর সদাপ্রভু ঈশ্বর আদমকে এই আজ্ঞা দিলেন, তুমি এই উদ্যানের সমস্ত বৃক্ষের ফল স্বচ্ছন্দে ভোজন করিও; কিন্তু সদসদ্-জ্ঞানদায়ক যে বৃক্ষ তাহার ফল ভোজন করিও না, কেননা যে দিন তাহার ফল খাইবে, সেই দিন মরিবেই মরিবে” (আদিপুস্তক ২:১৬, ১৭)।

বিস্ময়কর স্বাস্থ্য তথ্য: সমুদ্রের কিছু কিছু প্রাণি জেলিফিশের মত রহস্যময়, সম্মোহক, এবং দেখতে ভয়ানক। উদ্ভট নরম আঠালো এই প্রাণিগুলোর ৯৭ শতাংশ জল এবং এগুলো দেখতে বেশ স্বচ্ছ, এই কারণে এদের “জেলিফিশ” বলা হয়।
প্রথম দেখাতে এর বিস্ময়কর দিকটি হল এরা সব দিক থেকে সজীব। তাদের কোন হৃৎপিণ্ড নেই, কোন রক্ত নেই, এবং কোন ফুলকা, হাড়, অথবা তরুণাস্থিও নেই। বিজ্ঞানীরা এই ব্যাপারে নিশ্চিত যে, কিছু কিছু জেলিফিশের চোখ আছে যা আলো সনাক্ত করতে পারে, আর যখন আপনি বিবেচনা করে দেখবেন যে তাদের কোন মস্তিষ্ক নেই, তখন এই ব্যাপারটিই আপনার কাছে বিস্ময়কর বলে মনে হবে!
বিশেষ মাংস পেশীগুলো ব্যবহার করে জেলিফিশ জলকে তার ঘটিকার মধ্যে নিয়ে সেই জল আবার ধাক্কা মেরে বাইরে বের করার মাধ্যমে জেলিফিশ উপরে এবং নিচের দিকে চলাফেরা করতে পারে, তথাপি তাদের কোন মনোনয়ন শক্তি নেই যে তারা কোথায় যাচ্ছে। তারা মূলত বাতাস এবং স্রোত যে দিকে নিয়ে যায় সেই দিকে তারা গিয়ে থাকে।
কিন্তু মানুষ জেলিফিশ থেকে আলাদা, ঈশ্বর মানুষকে একটি মস্তিষ্ক এবং মনোনয়ন করার ক্ষমতা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন।

ঈশ্বর যা বলেন তিনি কি সত্যি সত্যি সেভাবেই পরিকল্পনা করেন?

আদিতে ঈশ্বর আদম এবং হবাকে এদন বাগানের জীবন-বৃক্ষ সহ অন্যান্য প্রায় সব গাছের ফল খাওয়ার স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। কিন্তু নিষিদ্ধ একটি গাছের ফল খাওয়ার ব্যাপারে তিনি তাদের এই বলে সতর্ক করে দিয়েছিলেন যেন তারা সেই গাছের ফল না খায় অথবা এমন কি স্পর্শও না করে, যার পরিণাম হবে তাদের মৃত্যু। আনুগত্য অথবা অবাধ্যতা এই দুইয়ের একটিকে মনোনয়নের জন্য সদসদ্ জ্ঞানদায়ক বৃক্ষটি ছিল এদন বাগানের একেবারে মাঝখানে। দুঃখজনকভাবে, প্রথম এই নর-নারীরা খাদ্য হিসেবে এবং তাদের জ্ঞান বৃদ্ধি করতে বিপজ্জনক এই ফলটিকে বেছে নিয়েছিল।

তারা ঈশ্বরের সুস্পষ্ট আদেশের বিপরীতে গেল এবং, এক কামড়ে পাপের সুনামি, এবং দুঃখ-কষ্ট ও মানসিক যন্ত্রণার জোয়ারে সমস্ত জগৎ ভেসে গেল। আর যদিও এই নিষিদ্ধ ফলটি এখন আর পৃথিবীতে নেই, তথাপি আজ আর কি কোন “নিষিদ্ধ ফলফলাদি” থাকতে পারে যা আমাদের আনন্দরস শুষে নেয় এবং আমাদের স্বাধীনতাকে চুরি করে?

বিস্ময়কর স্বাস্থ্য তথ্য: ইবেল অনুসারে, মানুষের মনোনয়নের মধ্য দিয়ে পাপ প্রবেশ করেছিল। প্রকৃতপক্ষে, বাইবেল পাপকে যেভাবে সংজ্ঞায়িত করে তা হল, ঈশ্বরের আজ্ঞা বা ব্যবস্থা লঙ্ঘনই পাপ (১ যোহন ৩:৪)। এটিই একমাত্র কারণ ছিল না যে মানুষ এক টুকরো ফল খেয়েছিল বরং এটি ছিল ঈশ্বরের প্রজ্ঞার উদারতার এবং নির্দেশনার বিরুদ্ধে একটি সিদ্ধান্ত।

মস্তিষ্কের সম্মুখভাগ বা ফ্রন্টাল লোব

১৮৪৮ খ্রীষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাস, ২৫ বছর বয়সী রেল-পথের কর্মী-সরদার, ফিনিয়াস পি. গেজ (চযরহবধং চ. এধমব) একটি গর্তের মধ্যে শক্তিশালী বিস্ফোরক দ্রব্য মোড়কজাত করার জন্য একটি লোহার রড ব্যবহার করছিল, আর তখন একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে, এতে মোড়কের কাজে ব্যবহৃত ১৩ পাউন্ড ওজনের লোহার রডটি তার মাথার মধ্য দিয়ে একটি গুলির মত উড়ে যায়। বিস্ময়কর ভাবে দুর্ঘটনাজনিত এই আঘাতটি ফিনিয়াসকে মারতে পারে নি। প্রকৃতপক্ষে, সে তার শারীরিক শক্তি ফিরে পায় এবং আরও ১৩ বছর পর্যন্ত সে বেঁচে থাকে। মানসিকভাবে তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ বলেই মনে হত সে কথা বলতে পারত এবং ঠিক আগের মতই সে তার শারীরিক কাজগুলো করতে পারত, আর দৃশ্যত তার স্মৃতি শক্তিও অটুট ছিল।
তথাপি তার বন্ধুরা এবং তার পরিবারের লোকেরা জানত যে সে আর আগের মত একই মানুষ নয়। দুর্ঘটনাটির পূর্বে সে ছিল একজন খুব-প্রীতিপূর্ণ মানুষ, দায়িত্বশীল কর্মী এবং স্বামী। সে সবার কাছে একজন ধর্মিক এবং নির্ভরযোগ্য মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু দুর্ঘটনাটির পর, ফিনিয়াস একটি গুরুতর নৈতিক পতনের অভিজ্ঞতা লাভ করে। সে একটুতেই রেগে যাওয়া, কর্কশ, এবং নোংরা ভাষায় কথা বলা একজন মানুষে পরিণত হয়। সে ধূমপান এবং মদ্যপান করতে শুরু করে এবং আধ্যাত্মিক বিষয়গুলোর প্রতি সমস্ত প্রকার সম্মান হারিয়ে ফেলে। এতে দৃশ্যত মনে হয়েছিল তার নৈতিক ছাকুনিগুলো বন্ধ হয়ে গেছে।
ফিনিয়াসের দুর্ঘটনাটি মূল্য হিসেবে তার সমস্ত নৈতিক মানদণ্ড এবং প্রিয়জনদের প্রতি তার সমস্ত ভালবাসা শেষ করে দিয়েছিল। গবেষকরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিলেন যে, সে তার মস্তিষ্কের সম্মুখভাগের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হারিয়ে ফেলেছে যাকে “ফ্রন্টাল লোব” বলে; এটি মস্তিষ্কের এমন একটি অংশ যা নৈতিক যুক্তি, বিচার বুদ্ধি, সামাজিক আচার আচরণ, এবং আধ্যাত্মিকতার জন্য দায়ী। আশ্চর্যের বিষয় হল, এমন কি বাইবেলও ললাটে বা কপালে একটি “চিহ্নের” কথা বলে যা জীবন এবং মৃত্যুর মধ্যে পার্থক্যকে বোঝাতে পারে!

কার্যত সিদ্ধান্তগুলো কোথায় প্রস্তুত হয়?

আমাদের সুবিবেচনামূলক, নৈতিকতা, এবং জীবন বিধানের জন্য আমাদের মস্তিষ্কের অগ্রভাগ বা ফ্রন্টাল লোবই হল মূল অংশ। এটি মস্তিষ্কের সেই অংশ যেটি আমাদের চরিত্র, ব্যক্তিত্ব, এবং ইচ্ছাকে নির্ধারণ করে। মূলত, মস্তিষ্কের এই সম্মুখভাগ বা ফ্রন্টাল লোবই হল আমাদের মস্তিষ্কের সেই অংশ যেখানে আমাদের আত্মিক স্বভাব ধারণ করা থাকে। এই কারণে, মস্তিষ্কের এই অংশকে শয়তান অবিরামভাবে ধ্বংস বা অস্পষ্ট করার চেষ্টা করে।

বিস্ময়কর স্বাস্থ্য তথ্য: “লোবোটমি” (ষড়নড়ঃড়সু) শব্দটি দ্বারা এমন একটি শল্যচিকিৎসাকে বুঝায় যা মস্তিষ্কের অগ্রভাগ বা ফ্রন্টাল লোব-এর কার্যকারিতাকে ধ্বংস করে। ১৯০০ শতাব্দীর প্রথম দিকে, স্কিট্জোফ্রীনিয়া বা ভগ্নমনস্কতা, অত্যন্ত মানসিক অবসাদ, এবং মনোরোগ সংক্রান্ত অসুস্থতার চিকিৎসা করতে এই প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিবরণ অনুসারে, এমন কি বাল্যকালের অবাধ্যতার চিকিৎসায়ও এটি ব্যবহার করা হত! তবে, অপরিবর্তনীয় এই প্রক্রিয়াটি লোকদের কাছ থেকে তাদের ব্যক্তিস্বাততন্ত্র্যতা এবং নৈতিক চিন্তার স্বাধীনতাকে কেড়ে নিত।

ফ্রন্টাল লোব বা মস্তিষ্কের অগ্রভাগ যখন স্বাভাবিকভাবে কাজ না করে তখন কী ঘটে?

বিশেষজ্ঞরা স্কিট্জোফ্রীনিয়া, তীব্র মানসিক অবসাদ, অত্যধিক-মানসিক বিশৃঙ্খলা, বিষণ্নতা, এবং কয়েক প্রকার অন্যান্য মানসিক অসুস্থতার সঙ্গে ফ্রন্টাল লোব বা মস্তিষ্কের অগ্রভাগের সম্পর্ক দেখেছেন। ফ্রন্টাল লোবের ক্ষতিগ্রস্ততার প্রভাবগুলোর সঙ্গে নিম্ন লিখিতব্য বিষয়গুলো যোগ করা যেতে পারে:

    • ঙ্ন্যায়পরায়ণ নীতির ক্ষতি,
    • ঙ্সামাজিকতার ক্ষতি,
    • ঙ্দূরদর্শিতার অভাব,
    • ঙ্ন্যায়্যতা বা বস্তুনিরপেক্ষতা হারিয়ে ফেলা,
    • ঙ্গাণিতিক সমাধান করার ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া,
    • ঙ্সংযত হওয়ার ক্ষমতা হ্রাস (দম্ভোক্তি, বৈরিতা, আগ্রাসিতার ব্যাপারে),
    • ঙ্স্মরণ শক্তি হ্রাস (বিশেষ করে সামপ্রতিক ঘটনা স্মরণের ক্ষেত্রে),
    • ঙ্মনোযোগ প্রদানে অক্ষমতা এবং অস্থিরতা,
    • ঙ্আবেগ স্থৈর্যের অভাব
    • ঙ্ঔদাসীন্য (কর্মোদ্যোগের অভাব
    • ঙ্এবং একজন ব্যক্তির (যা পাওয়া যায় তা-ই নিয়ে সুখী হওয়া ব্যাপারে) উদাসীনতা।

আরও পড়তে চান? আশ্চর্যজনক স্বাস্থ্য ম্যাগাজিন অর্ডার করতে আমাদের সংস্থান পৃষ্ঠাটি দেখুন!