N.E.W.S.T.A.R.T

Rest|বিশ্রাম

“পরে সদাপ্রভু ঈশ্বর আদমকে ঘোর নিদ্রায় মগ্ন করিলে তিনি নিদ্রিত হইলেন; আর তিনি তাঁহার একখান পঞ্জর লইয়া মাংস দ্বারা সেই স্থান পূরাইলেন। সদাপ্রভু ঈশ্বর আদম হইতে গৃহীত সেই পঞ্জরে এক স্ত্রী নির্মাণ করিলেন ও তাঁহাকে আদমের নিকটে আনিলেন ” (আদিপুস্তক ২:২১, ২২)।

বিস্ময়কর স্বাস্থ্য তথ্য: আপনি কি জানতেন যে, মাত্র এক ঘণ্টা ঘুমের হানিতে মহা সড়কে দুর্ঘটনার সংখ্যা আট শতাংশ বৃদ্ধি কওে কিন্তু ঐ এক ঘণ্টা বাড়তি ঘুমের কারণে সেই দুর্ঘটনাগুলোর সংখ্যা আট শতাংশ কমিয়ে দেয়? এটি সত্য! এটি প্রতি বছরই ঘটে যখন দিনের আলো সংরক্ষণের জন্য সময় পরিবর্তন করা হয়।

এর কারণ হল ১৮ ঘণ্টা জেগে থাকার পর গাড়ি চালানোর কার্যকারিতা আর দুটি অ্যালকোহল (এটি অ্যালকোহল পান = ৫ আউন্স পান) পান করার পরে আপনার গাড়ি চালানোর কার্যকারিতা উভয়ই সমান। আপনি যখন ২৪ ঘণ্টা জেগে থাকেন, তখন আপনার গাড়ি চালানোর কার্যকারিতা, চার থেকে ছয়টি পানের পর গাড়ি চালানোর কার্যকারিতার সমতুল্য! আট ঘণ্টা প্রশান্তিময় ঘুমানোর ফলে সর্বোত্তম কর্মক্ষমতা এসে থাকে।

আমরা দেখতে পাই যে একটি গভীর এবং সৃজনশীল ঘুমের কথা সর্বোপ্রথম বাইবেলে উল্লেখ রয়েছে। আদম যখন জেগে উঠলেন, তখন তিনি সতেজ এবং পুনরুজ্জীবিত হয়েছিলেন … আর তিনি বিবাহ করেছিলেন। এটি ছিল সম্পূর্ণ নতুন জীবন এবং শেষ পর্যন্ত, মানব জাতির ভবিষ্যৎ ঐ প্রথম ঘুমের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যেতে পারে।

বাস্তবতা ছিল এই রকম যে, এমন কি একটি নিখুঁত বিশ্বেও, ঈশ্বর মানুষকে এমন ভাবে নকশা করেছিলেন যে তার বিশ্রামের প্রয়োজন হবে এবং সেই রাতটি ছিল ঘুমের জন্য সর্বোত্তম সময়। “এবং কোন এক স্থানে পৌঁছিলে সূর্য অস্তগত হওয়াতে আর তিনি তথাকার প্রস্তর লইয়া বালিশ করিয়া সেই স্থানে নিদ্রা যাইবার জন্য শয়ন করিলেন” (আদিপুস্তক ২৮:১১)।

এমন কি হতে পারে যে সব-সময়-চলতে-থাকা আমাদের এই ত্রুটিপূর্ণ বিশ্ব আরামদায়ক ঘুমের গুরুত্বের কথা আমাদের মনে করিয়ে দিতে হবে?

বিস্ময়কর স্বাস্থ্য তথ্য: একটি নবজাত শিশু দিনে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত ঘুমায়। কিন্তু ঐ একই শিশু প্রথম বছরে তার পিতা-মাতার জন্য ৭০০ ঘণ্টা পর্যন্ত ঘুম নষ্ট করতে পারে!

ব্যহত ঘুমের দুঃশ্চিন্তার কারণ কি?

আমেরিকার অধিবাসিদের মধ্যে প্রায় ৬ কোটি অধিবাসির ঘুমের সমস্যা রয়েছে। আজ কৃত্রিম আলো, টেলিভিশন, ইন্টারনেট, এবং ক্যাফেইনের নেশার কারণে লোকেরা তাদের দাদা-দাদী বা নানা-নানীদের তুলনায় প্রায় এক ঘণ্টা কম ঘুমায়। এই পরিসংখ্যানটি নিজেই হয়ত ততটা চমকপ্রদ না-ও হতে পাওে তবে ঘুমকে আরোগ্য প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলোর একটি উপাদান হিসেবে বিবেচনা করলে একটি রোগে-জর্জরিত আমেরিকাও জাগরণের আহ্বানের মধ্যে রয়েছে।

ঘুম হল একটি কার্যক্রম

ঘুম আপনার শরীরের জন্য শুধুমাত্র একটি নিষ্ক্রিয় অভিজ্ঞতা অপেক্ষা অধিক কিছু। যদিও আমরা হয়ত বিশ্রাম নিয়ে থাকি, তথাপি আমাদের শরীর অন্য আরেক ধরণের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকে, আর সেটি হল এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে আপনার শরীরের ক্লান্ত হওয়া অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, স্নায়ু এবং শরীরের টিস্যুগুলো পুনরুদ্ধার এবং আরোগ্য লাভ করে থাকে।

ঘুমকে পাঁচটি ক্রমবর্ধমান গভীর ঘুমের স্তরের একটি চক্র দ্বারা চিহ্নিত করা হয়, তার পরেই মস্তিষ্কের কার্যকলাপ বৃদ্ধি পায়:

পর্যায় ১: আপনি যদি কখনও নিদ্রালু অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে থাকেন, তাহলে আপনি নিশ্চয়ই অত্যন্ত হাল্কা ঘুমের এই পর্যায়ের সঙ্গে খুবই পরিচিত। নিদ্রালু অবস্থা যা চালকদের প্রায়ই হঠাৎ চমকে জাগরিত করে তোলে আর এই অবস্থাটি সংক্ষিপ্তভাবে এই পর্যায়ে প্রবেশ করার ইঙ্গিত দেয়।

পর্যায় ২, ৩, এবং ৪: এই পর্যায় মস্তিষ্কের কার্যকলাপ হ্রাস পায় (কিন্তু কার্যকলাপ থামে না); গভীর ঘুম শুরু হয় এবং ডেল্টা তরঙ্গ শুরু হয় এবং তীব্র ভাবে শুরু হয়।

পর্যায় ৫: এই পর্যায়ের ঘুম চোখের দ্রুত চলাচল (জঊগ), স্বপ্ন দেখা, বাহু এবং পা সম্পূর্ণ অক্ষম হয়ে যাওয়া (যাতে আমরা আমাদের স্বপ্ন (কাজে পরিণত না করে ফেলি), এবং হৃদস্পন্দনের হার ও রক্তচাপ বৃদ্ধির দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।

আরইএম (জঊগ) এর সময় মস্তিষ্ক তরঙ্গের নমুনা জাগ্রত থাকার কাছাকাছি থাকে। এটি ধারণা করা হয় যে জঊগ হল এমন একটি সময় যখন তথ্য প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ, এবং মস্তিষ্কের দক্ষতার উন্নয়নের কাজ সম্পন্ন করা হয়।

বিস্ময়কর স্বাস্থ্য তথ্য: এডিনোসিন হরমোনটি আমাদের ঘুমাতে সাহায্য করার জন্য শিথিলায়ন প্রবর্তন করে, কিন্তু ক্যাফেইন অ্যাডিনোসিন এবং মস্তিষ্কের মধ্যকার যোগাযোগকে আটকে দেয়, যা আপনাকে “জাগ্রত” রাখে এবং ক্লান্তি-সম্পর্কিত আঘাতের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বন্ধ করে দেয়।

রাতের প্রশান্তিময় ঘুমের জন্য সাতটি সহজ পদক্ষেপ:

    1.  সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে উঠুন: সূর্যের আলো সচেতনতা, হরমোন যেমন সেরোটোনিনের মাত্রা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
    2.  উদ্ভিদ ভিত্তিক জটিল কর্বোহাইড্রেট এবং ট্রাইপটোফান সমৃদ্ধ একটি সুষম খাদ্য খান: ট্রাইপটোফান সমৃদ্ধ খাদ্যগুলো শুধু ঘুমের জন্যই নয়, বরং এটি দিনের সন্তোষজনক কর্ম সম্পাদন ক্ষমতার জন্যও ভালো। ট্রাইপটোফান, এটি একটি অ্যামিনো এসিড, যা সেরোটোনিন ও মেলাটোনিন সহ বহুসংখ্যক হরমোন গঠনের জন্য প্রয়োজন। কার্বোহাইড্রেটগুলো ট্রাইপটোফানকে মস্তিষ্কে প্রবেশ করতে সাহায্য করে। ট্রাইপটোফান-সমৃদ্ধ খাদ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে: টফু, কুমড়ার বীজ, গ্লুটেন ময়দা, তিল বীজ, আলমন্ড, ব্ল্যাক ওয়ালনাট, এবং কালো মটর (নষধপশ-বুবফ পড়ঢ়িবধং) ইত্যাদি।
    3.  সহনীয় মাত্রায় শারীরিক ব্যায়াম করার জন্য সময় খুঁজন: ব্যায়াম কিছু কিছু হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে যার কারণে রাতে ঘুম বৃদ্ধি হতে দেখা গেছে।
    4. ঘুম হরণকারী পদার্থগুলো (যেমন অ্যালকোহল, ক্যাফেইন, নিকোটিন, ইত্যাদি।) এড়িয়ে চলুন: অ্যালকোহল শরীরের গভীর ঘুম কেড়ে নেয়, অপর দিকে ক্যাফেইন তার উত্তেজক পদার্থগুলোর কারণে ঘুমকে বাধাগ্রস্ত করে। তামাক ব্যবহারকারীরা রাতে নিকোটিন প্রত্যাহার জনিত কারণে গভীর ঘুম থেকে বঞ্চিত হয়। মানসিক অবসাদ-উপশমকারী বস্তুগুলো এবং এমন কি ঘুমের বড়িও আরইএম (জঊগ) ঘুমের স্তরকে কমিয়ে দেয়।
    5.  একটি নির্দিষ্ট, তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাওয়ার সময় নির্ধারণ করুন: বিশেষজ্ঞরা মধ্য রাতের অন্তত আড়াই ঘণ্টা পূর্বে ঘুমাতে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। ঘুমের একটি নিয়মিত নমুনাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এমন কি আপনি যদি দিনের বেলায়ও ঘুমান। গবেষণা দেখেছে যে নাইটশিফ্ট বা রাতে কাজ করার পালায় যারা কাজ করেন তাদের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠিত ঘুম/জাগরণ চক্র ভালো কাজ করে।
    6.  অন্ধকারে ঘুমানো: আশানুরূপ মেলাটোনিনের জন্য সম্পূর্ণ অন্ধকারে ঘুমানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ: উজ্জ্বল আলোতে ঘুমানো, এমন কি কয়েক মুহূর্তের জন্য হলেও তা মেলাটোনিনের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে।

আরও পড়তে চান? আশ্চর্যজনক স্বাস্থ্য ম্যাগাজিন অর্ডার করতে আমাদের সংস্থান পৃষ্ঠাটি দেখুন!