N.E.W.S.T.A.R.T.

Sunlight|সূর্যের আলো

“পরে ঈশ্বর কহিলেন, দীপ্তি হউক; তাহাতে দীপ্তি হইল। তখন ঈশ্বর দীপ্তি উত্তম দেখিলেন” (আদিপুস্তক ১:৩, ৪)।

বিস্ময়কর স্বাস্থ্য তথ্য: সূর্য প্রকাণ্ড আকৃতির বড়, অদ্ভুত রকমের উত্তপ্ত মহাজাগতিক বিকিরণ-শক্তি উৎপাদনের কারখানা, যার উপরিভাগের তাপমাত্রা প্রায় ১১,০০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট। এর আভ্যন্তরিণ তাপমাত্রা কিছুটা বেশি উষ্ণ- এতটা বেশি উষ্ণ হবে তা আনুমানিকভাবে ১৮০ লক্ষ ডিগ্রি হবে!

সূর্য কেন্দ্রে চাপ প্রতি ইঞ্চিতে প্রায় ৭,০০০ লক্ষ টন। সূর্য কেন্দ্রের পরমাণু ভেঙ্গে নিউক্লিয়ার ফিউশন তৈরি করতে এই চাপই যথেষ্ট, যার কারণে সূর্য বিরামহীনভাবে আলো এবং উষ্ণতা দিয়ে চলেছে। প্রকৃতপক্ষে, এর কেন্দ্রের উপাদান এতটাই উষ্ণ যে আপনি যদি এই উষ্ণতা একটি সূচাগ্রে ধারণ করতে পারতেন, তবে সেই সূচাগ্র থেকে এতটাই তাপ নির্গত হত যে সেই তাপ দিয়ে আপনি একজন ব্যক্তিকে এক মাইল দূর থেকে মেরে ফেলতে পারতেন।

সৌভাগ্যবশত, পৃথিবী নয় কোটি ত্রিশ লক্ষ মাইল দূরে নিরাপদ স্থানে রয়েছে, এর অর্থ সূর্য থেকে আলোক রশ্মি এই জগতে পৌঁছতে ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ডের মত সময় লাগে। এটি দিয়ে অনেক ভালো কিছু করতে হবে।

আলো সম্পর্কে এত ভালো কি আছে?

সমস্ত জীবনের জন্য আলো খুবই প্রয়োজন এত প্রয়োজন যে পৃথিবীতে সমস্ত জীব বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ বজায় রাখতে ঈশ্বর শক্তির অবিচ্ছিন্ন উৎস হিসেবে সূর্যকে দিয়েছেন। বৃদ্ধির জন্য আপনার বাগানের উদ্ভিদগুলোর যে শক্তি ব্যবহার করে, সর্বোচ্চ গতিতে দৌঁড়ানোর জন্য একটি চিতাবাঘ যে শক্তি ব্যবহার করে, এবং এমন কি জ্বালানি তেল, যা আপনার গাড়িকে চলার শক্তি যোগায় তা প্রকারান্তে সূর্য কর্তৃক সরবরাহকৃত শক্তি।

প্রকৃতপক্ষে, পৃথিবীতে প্রাকৃতিকভাবে ঘটে চলা প্রায় সমস্ত শক্তির উৎপাদকই সৌর শক্তি।

যদিও ঈশ্বর আদিতে বলেছিলেন যে আলো উত্তম, তথাপি, সত্যি সত্যিই অনেক লোক আজ সূর্যালোকের মধ্যে যেতে ভয় পায়।

সম্ভবত আমাদের এতই ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে যে, আমরা সূর্যালোকের বিপদগুলোকে অতিরঞ্জিত করছি, অন্য দিকে আমরা স্বাস্থ্যের অনেক ইতিবাচক উপকারিতা হারাচ্ছি। “সত্যি, আলো মিষ্ট, এবং চক্ষুর পক্ষে সূর্যদর্শন ভালো” (উপদেশক ১১:৭)।

সূর্যের আলো কি সত্যি সত্যিই স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে?

উদ্ভিদের মত, মানব দেহের সর্বাপেক্ষা কাঙ্খিত স্বাস্থ্যের জন্যও সূর্যের আলো প্রয়োজন।

যদিও অনেকেন বিশ্বাস করে যে, খোলামেলা অবস্থায় সূর্যের আলোর নিচের যে কোন ধরণের উপস্থিতিই হল ক্ষতিকর, আসলে এটি হবে খোলামেলা অবস্থায় সরাসরি সূর্যের আলোর নিচে দীর্ঘক্ষণ থাকাটা ক্ষতিকর যা এড়িয়ে যাওয়া উচিত।

প্রকৃতপক্ষে, পরিমিত পরিমাণে সূর্যের আলো যে উপকারগুলো করতে পারে তা হল:

    • ঙ্মানসিক দুশ্চিন্তা থেকে স্বস্তি দান
    • ঙ্রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
    • ঙ্ঘুমের উন্নতি
    • ঙ্মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধি
    • ঙ্বিপাকের উন্নতি
    • ঙ্আর্থ্রাইটি বা অস্থিসন্ধি প্রদাহ থেকে মুক্তি
    • ঙ্এবং শক্তির স্তর বৃদ্ধি।

সূর্যের আলোর অনেক উপকারিতা ভিটামিন ডি-এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।

আমাদের শরীরের জন্য স্বাস্থ্য-উন্নয়নমূলক ভিটামিনের দরকার যা তৈরি করতে অতি বেগুনী রশ্মি অত্যন্ত প্রয়োজন যা সূর্যের আলোতে পাওয়া যায়।

আমরা যখন সূর্যের আলোর মধ্যে যাই তখন মেলানিন তৈরি করে এবং অগ্রদূত হিসেবে ভিটামিন ডি তৈরি করে আমাদের ত্বক প্রকট সূর্যালোক থেকে নিজেকে রক্ষা করতে শুরু করে; মেলানিন হল এক ধরণের রাসায়নিক পদার্থ যা ত্বককে কালো করে। বাড়তি মেলানিন এবং ভিটামিন ডি ত্বকের কোন প্রকার পোড়া ছাড়াই বাড়তি সূর্যের আলো গ্রহণের সুযোগ করে দেয়।

আমার ত্বকে কতটা সূর্যের আলো লাগানো দরকার?

অধিকাংশ ককেশিয়ানদের জন্য দিনে প্রায় ৩০ মিনিট, সপ্তাহে ৩ বার শরীরে সরাসরি সূর্যের আলো লাগানো যথেষ্ট। আপনার ত্বক অধিক কালো হলে, পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ডি তৈরির জন্য আপনাকে আরও অধিক সময় সরাসরি সূর্যের আলোর নিচে থাকতে হবে। তবে, আপনার ত্বক যদি অধিক ফর্সা হয়, এবং সহজেই পুড়ে যায়, অথবা আপনি যদি এমন অঞ্চলে বাস করেন যেখানে সূর্যের আলো তীব্র, তাহলে আপনার ত্বকে পর্যায়ক্রমিক ভাবে বা একটু একটু করে সূর্যের আলো লাগানো নিশ্চিত করতে হবে। ত্বক যদি লাল হওয়ার ঘটনা ঘটে তবে, আপনি হয়ত সূর্যের আলোতে খুব বেশি সময়ে যাপন করেছেন।

প্রতি দিন পাঁচ মিনিটের মত সময় নিয়ে একটু একটু করে শুরু করুন (যাদের ত্বক ফর্সা) এবং ধীরে ধীরে তা বৃদ্ধি করে দিনে ৩০ মিনিট বা তারও বেশি সময় পর্যন্ত বৃদ্ধি করুন। আপনি যদি বাইরে সূর্যের আলোতে দীর্ঘ সময় ধরে থাকেন, তাহলে আপনাকে অবশ্যই কাপড় পরতে হবে এবং এমন ধরণের বড় টুপি পড়তে হবে যার প্রান্ত খুব চওড়া যাতে আপনার শরীরের সে অঞ্চলগুলো সাধারণত পুড়ে যায় (যেমন মুখমণ্ডল, কান, গলা, কাঁধ, এবং পিঠ) সেই অঞ্চলগুলো সুরক্ষিত থাকে। তবে আপনাকে এই ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে যে, যে বাধাগুলো অতি বেগুনীরশ্মিগুলোকে কমিয়ে দেয় (যেমন, সানস্ক্রিন, জানালা ইত্যাদি) সেগুলো আপনার শরীরে ভিটামিন ডি তৈরিকেও কমিয়ে দেবে!

বিস্ময়কর স্বাস্থ্য তথ্য: দ্যা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউ অব হেল্থ-এর প্রতিবেদন বলে যে, দেহে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ডি সংশ্লেষণ হওয়ার জন্য ১০ থেকে ১৫ মিনিট সূর্যের আলোতে থাকাই যথেষ্ট।

কার্ডিওভাস্কুলার বা হৃদরোগ: সূর্যের আলো কি আপনার হার্ট বা হৃৎপিণ্ডকে সাহায্য করতে পারে?

পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, ডি ভিটামিন অন্ত্রকে অধিক দক্ষতার সঙ্গে ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস শোষণ করতে সাহায্য করে এই উপাদানগুলো উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। (উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে গুরুতর জটিলতা যেমন হৃদরোগ, হার্ট অ্যাটাক, এবং স্ট্রোক সম্পর্কযুক্ত রয়েছে।)
প্রকৃতপক্ষে, হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ভিটামিন ডি-এর স্তর এবং হৃদরোগের মধ্যে সম্পর্কের উপর একটি গবেষণা প্রকাশ করেছে। ফলাফলগুলো ছিল চমকপ্রদ: যাদের ভিটামিন ডি-এর পরিমাণ কাঙ্খিত মাত্রায় ছিল তাদের তুলনায় যাদের ভিটামিন ডি-এর পরিমাণ অপর্যাপ্ত ছিল তাদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ছিল দ্বিগুণ!

বিস্ময়কর স্বাস্থ্য তথ্য: আমেরিকার অধিবাসিদের ৯০ শতাংশেরও বেশি ভিটামিন ডি-এর অভাবে ভুগছে।

আরও পড়তে চান? আশ্চর্যজনক স্বাস্থ্য ম্যাগাজিন অর্ডার করতে আমাদের সংস্থান পৃষ্ঠাটি দেখুন!